অনুবাদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অনুবাদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৬

তুষার সন্ধ্যায় বনানী সমীপে বিরাম

|| তুষার সন্ধ্যায় বনানী সমীপে বিরাম ||


এই বনানী যার, যেন মনে হয় তাকে আমি চিনি
নিবাস তার ওই গ্রামে যে সে কথা যদিও মানি
সে দেখবে নাকো আমি এখানে নিয়েছি বিরাম
দেখতে বনানী ঢেকে দেয় তুষারপাত অবিরাম

আমার ছোট্ট ঘোড়াটা নিশ্চয় ভাবে কী আশ্চর্য
বিরাম, যখন কাছেপিঠে নেই কোন খামারের জো
বনানী আর বরফ-জমা এই হ্রদের ঠিক মাঝে
বছরের সবচেয়ে অন্ধকারতম সঙ্গিন এক সাঁঝে

অধৈর্য হয়ে সে ঝাঁকায় তার ঘণ্টি বাঁধা লাগাম
শুধাতে আমাকে আমি কি কোন ভুল করেছিলাম
এছাড়া যে শব্দ শুনি তা ঝাঁট দিয়ে যাওয়া বাতাস
অবাধ, আর তার সঙ্গে পলকের মত তুষারের রাশ

এই বনানী কত সুন্দর, কত গহীন, কত অন্ধকার
কিন্তু আমি যে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ, করেছি অঙ্গীকার
এখনও যোজন যেতে হবে ঘুমিয়ে পড়ার আগে
এখনও যোজন যেতে হবে ঘুমিয়ে পড়ার আগে ||


(অনুবাদ - Stopping by Woods on a Snowy Evening by Robert Frost)
----------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ১০ এপ্রিল ২০১৬

শনিবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৬

সাপ

|| সাপ ||

উষ্ণ, উত্তপ্ত একদিন, যখন খরতাপে আমি ছিলাম পায়জামায়,
আমার জলাধারে এসেছিল সাপ এক
জল খেতে

বিশাল, নিরালোক তেঁতুল গাছের সুনিবিড় অচিন-গন্ধী ছায়ায়
আমি নেমেছিলাম সিঁড়ি বেয়ে, জলের পাত্র সমেত
কিন্তু যেহেতু ও ছিল জলাধারে আমার আগে, আমাকে দাঁড়াতে, অপেক্ষা করতে হয়

মেটে-দেয়ালের এক ফাটল থেকে ও নেমে এসেছিল আবছায়ায়
আর পাথরের জলাধারটার কানার উপর ও লতিয়ে নিয়ে গিয়েছিল
ওর পীতাভ-পিঙ্গল শিথিলতা, ওর নমনীয় পেট উপুড় করে
আর, রেখেছিল ওর গলা  নিচের পাথরের উপরে
এবং, যেখানে নল থেকে জল চুয়ে পড়েছিল, সেখানে এক সংকীর্ণ স্বচ্ছতায়
ও চুমুক দিয়েছিল ওর সরল মুখে
মৃদু ভঙ্গিতে সরল মাড়ির ভিতর দিয়ে,
ও শুষে নিয়েছিল ওর লম্বা ঢিলে শরীরের অন্তরে
নিঃশব্দে

কেউ তো ছিল আমার জলাধারে আমার পূর্বগামী
আর, দ্বিতীয় এক আগতের মত, প্রতীক্ষায় আমি

ওর জল পান থেকে ও উঁচিয়েছিল ওর মাথা, যেমন করে গবাদি পশু
আর দেখেছিল আমার দিকে ভাসাভাসা দৃষ্টিতে, পানরত গবাদির মত
ওর ঠোঁট থেকে লকলক করে উঠেছিল ওর দ্বিশৃঙ্গ জিভ
এবং মুহূর্তের জন্য  ও তন্ময় হয়েছিল
আর, ঝুঁকে আরও একটু জল খেয়েছিল
সেই সিসিলিয় জুলাইয়ের দিনে, যখন এতনা ধূমায়িত
জ্বলন্ত ভূগর্ভ হতে নিঃসৃত ওর মেটে-পিঙ্গল, মেটে-স্বর্ণাভ আভা দেখে
আমার শিক্ষাদীক্ষা সরবে আমায় বলেছিল
ওকে বধ করতে হবে
কেননা সিসিলিতে কৃষ্ণ-কালো সাপেরা নির্দোষ, আর সোনালীরা বিষধর

আর আমার অন্তরের স্বরেরা বলেছিল আমায়, তুমি যদি প্রকৃত পুরুষ হতে
তুমি হাতে লাঠি নিতে, ওকে ভেঙ্গে ফেলতে, ওকে শেষ করতে

কিন্তু, আমাকে কি স্বীকার করতেই হবে ওকে আমার কত ভালো লেগেছিল
কত খুশি হয়েছিলাম আমি, যে ও অতিথির মত নীরবে এসেছিল
আমার জলাধারে জল খেতে
আর শান্ত, প্রশমিত হয়ে অকৃতজ্ঞের মত ফিরে যেতে
পৃথিবীর জ্বলন্ত গর্ভে?

সেটা কি ছিল আমার কাপুরুষতা, যে আমি ওকে মারতে সাহস পাই নি ?
নাকি বিকৃতি যে আমি ওর সাথে আলাপের আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম ?
নাকি বিনম্রতা, এত সম্মানিত বোধ করায় ?
আমি কত সমাদৃত যে বোধ করেছিলাম !

কিন্তু সেই সব কণ্ঠস্বরেরা:
তুমি যদি না ভয় পেয়ে থাকতে, তুমি ওকে মেরে ফেলতে !

আর, সত্যিই তো আমি ভয় পেয়েছিলাম, বড় বেশি ভয়
অথচ তা সত্ত্বেও, আরও বেশি হয়েছিলাম সম্মানিত
যে ও আমার আতিথেয়তা চাইবে
গোপন জগতের আঁধার দুয়ার থেকে আগত

ও যথেষ্ট পান করেছিল
আর মাতালের মত মাথা উঁচিয়েছিল, স্বপ্নাবিষ্ট হয়ে
এবং, ঠোঁট চেটে নেয়ার ভঙ্গিতে
বাতাসে ওর জিভ লকলক করেছিল দ্বিশৃঙ্গ নিশার মত, সে কী কালো
আর, ও দেবতার মত দেখেছিল, দৃষ্টিহীন, চারিপাশে বাতাসে
আর, ধীরে ওর মাথা ঘুরিয়েছিল
ধীরে, অতি ধীরে, যেন ত্রিগুণ স্বপ্নমগ্ন
এগিয়েছিল ও সর্পিল ভঙ্গিতে ওর মন্থর দৈর্ঘ্য টেনে নিতে
আর, আবার আমার দেয়ালের গায়ের ভাঙ্গা পাড়ে উঠে পড়তে

এবং, যেই ও ওর মাথা গুঁজল সেই ভয়ঙ্কর কোটরে,
যেই ও ধীরে থামল, ওর কাঁধে সর্পিল আয়েস মাখিয়ে, আর আরও ভিতরে সেঁধিয়ে গেল
এক ধরনের ভয়, এক ধরনের প্রতিবাদ – ওই ভয়ঙ্কর অন্ধকার কোটরে ওর প্রস্থানের বিরুদ্ধে,
সুচিন্তিত ভাবে অন্ধকারে ঢুকে পড়ে তারপর নিজেকে ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেয়ার বিরুদ্ধে –
আমাকে অভিভূত করল, যেই ওর পিঠ আমার দিকে ফিরল

আমি নামিয়ে রাখলাম আমার হাতের পাত্র, আমি ঘুরে দেখলাম,
আমি তুলে নিলাম একটা বেকায়দা চ্যালাকাঠ
আর সেটা ছুঁড়লাম জলাধারের দিকে সশব্দে

আমার মনে হয় তাতে ওর আঘাত লাগেনি
কিন্তু হঠাত ওর পিছিয়ে পড়া অংশটা এক অশালীন ব্যস্ততায় আন্দোলিত হল
মোচড় খেল বিদ্যুতের মত, আর তারপর মিলিয়ে গেল
সেই অন্ধকার কোটরে, আমার দেয়ালের গায়ে মেটে-ঠোঁটের মত ফাটলে
যা দেখে, সেই প্রখর স্তব্ধ দুপুরে, আমি চেয়ে রইলাম এক বিমুগ্ধ আকর্ষণে

আর সেই মুহূর্তেই আমার অনুতাপ হল
মনে হল আচরণটা কী সামান্য, কী অশোভন, কী ইতরই না ছিল
আমি ঘৃণা করলাম নিজেকে, আর আমার অভিশপ্ত মানুষী শিক্ষাদীক্ষার স্বরকে

আর আমার মনে পড়ল সেই সমুদ্রের পাখির কথা
আর আমি চাইলাম যে ও – আমার সাপ – ফিরে আসুক

কারণ, আমার আবার মনে হল যে ও রাজসিক
নির্বাসিত রাজা সম, অধোভুবনে মুকুটহীন
যার এখন আবার অভিষিক্ত হওয়ার সময় হয়েছে

আর, তাই আমি সুযোগ হারালাম জীবের প্রভুদের একজনের সাহচর্যের
এবং, আমায় খেসারৎ দিতে হবে কিছুর;
এক ক্ষুদ্র মানসিকতার |


(অনুবাদ - D. H. Lawrence, "Snake")

-------------------------------------
© ইন্দ্রনীর – ০৯ এপ্রিল ২০১৬

বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

ব্যভিচারিণী স্ত্রী



|| ব্যভিচারিণী স্ত্রী ||
(“La Casada Infiel” (The Faithless Wife) by Federico García Lorca এর অনুবাদ)

সেটা ছিল নিশীথ, ঋষি জেমস স্মরণে
তাই, যেন প্রায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আচরণে

তাকে নিয়ে গিয়েছিলাম নদীতে আমি
স্থির বিশ্বাসে যে সে অনূঢ়া,
যদিও, ইতিমধ্যেই ছিল তার এক স্বামী |

পথের বাতি সব নিভেছিল একে একে,
আর মেতে উঠেছিল ঝিল্লিরা, উল্লাসিত ডাকে

আমি পথের শেষ বাঁকের কোনে
ছুঁয়েছিলাম তার বুকের সুপ্ত কোরক

আর, সহসা চেয়ে তারা আমার পানে
ফুটেছিল, যে ভাবে ফোটে কচুরিপানার স্তবক
তার অন্তর্বাসের কলপের আড়ষ্টতা যত,

দশখানা ছুরি দিয়ে এক টুকরো তসর
ফালাফালা করার শব্দের মত
আমার কানে বিঁধেছিল |

তাদের পাতায় রুপালী প্রভার অভাবে

আরও বিশাল মনে হয়েছিল গাছগুলো       
আর নদীর থেকে বহুদূরে, এক সারিতে
কুকুরের দল ডেকে গিয়েছিল |



তুঁত গাছ, নলখাগড়া,
আর কাঁটা-গুল্মের ঝাড় পেরিয়ে,

তার ঝাঁকড়া চুলের গুছির নিচে,
আমি বালিতে একটা খাঁজ কেটেছিলাম

খুলেছিলাম আমি আমার গলবস্ত্র
আমার কটিবন্ধ, সাথের আগ্নেয়াস্ত্র
খুলেছিল সে তার বেশবাস
আর, তার চার চারটে বক্ষবাস

না জটামাংসী ফুল না শুক্তির জঠর            
কভু ধরে চিকণ ত্বক, এমনতর
না রজত-সংকর কাঁচেও হয়
ঝলক এমন দ্যুতিময় |

আমার ধরা ছোঁয়া থেকে পালিয়েছিল
তার জঙ্ঘা, সচকিত মাছের মত পিছল
আধেক ছিল যার অগ্নিগর্ভ
আধেক ছিল শীতল |

বিনা লাগাম, বিনা রেকাবে আরোহণ করে
আমি ছুটিয়েছিলাম সেই নিশীথে
এক ঝিনুক বর্ণ অশ্বিনী,
সবচেয়ে সেরা রাজপথে |



সজ্জন আমি, তাই করব না পুনরাবৃত্তি
যা কিছু কথা সে বলেছিল কানে কানে |
অন্তর্দৃষ্টির আলোয় যা বুঝেছি -
কথা না বলাই ভালো, অকারণে |

হয়ে বালিতে আকীর্ণ, চুম্বনে লিপ্ত হয়ে
গিয়েছিলাম আমি তাকে নিয়ে দূরে, নদী হতে

তখন গ্লাডিওলাস ফুলের অসিপত্র
যুঝেছিল বাতাসের সাথে |



প্রকৃত ভবঘুরে বেদেদের ধারায়
যেমন আমি, তেমনই ছিল আমার ব্যবহার |
আমি তাকে দিয়েছিলাম পীতাভ স্যাটিনের
একটা বড় সীবন-সাজি উপহার,

কিন্তু, আমি চাই নি দিতে তাকে হৃদয়
কেন না, তার এক স্বামী থাকা সত্ত্বেও
সে আমাকে যে বলেছিল সে পরিণীতা নয়
যখন আমি তাকে নিয়ে গিয়েছিলাম নদীতে ||
---------------------------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ০২ অগাস্ট ২০১৫
 ---------------------------------------------------------
After I was intrigued by one particular English translation of the poem “La Casada Infiel” (The Faithless Wife) by Federico García Lorca, I looked up, and found several other translations of it. And, none probably transports the original poem’s charming flavor, as rued by some translators.
The one at:
http://ivanjennes.blogspot.in/2014/06/the-faithless-wife-leonard-cohen-philip.html
which by itself “is even more a ballad than the original”, also seems inadequate and affected.

শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৫

প্রবুদ্ধ-ত্রয়ীর যাত্রা

|| প্রবুদ্ধ-ত্রয়ীর যাত্রা ||


(T S Eliot এর “The Journey Of The Magi” এর অনুবাদ)

‘আমরা লভেছিলাম এক হিমেল সমাগম তার,
ঠিক বছরের নিকৃষ্টতম সময়ে
চরম শীতের মধ্যবর্তী – যখন
আবহাওয়া তীক্ষ্ণ, আর পথ বরফে গভীর,
এক যাত্রার, এক সেমত দীর্ঘ যাত্রার জন্য’

পায়ের ব্যথায় কাতর উটেরা বিগড়ে বেঁকে বসেছিল,
গলে যাওয়া বরফের মাঝে শুয়ে পড়ে |
কতবার আক্ষেপ করেছিলাম
ছেড়ে আসা পাহাড়ের ঢালে দেহলি ঘাট, গ্রীষ্মাবাস প্রাসাদ,
আর শরবৎ পরিবেশিকা কৌশিক বালিকাদের কথা ভেবে |

তখন উটের সহিসদের অবিরাম গজগজানি, শাপশাপান্ত
আর তাদের মদ আর মেয়েমানুষের খাঁই, আর আর সরে পড়ে চম্পট,
আর নিশি-অনলের নিভে যাওয়া, আর আশ্রয়ের অভাব,
বৈরীভাবাপন্ন নগর সব, প্রতিকূল শহরতলী
আর আদাড়ে পল্লীগ্রামে দাবী চড়া দাম :
সে কী এক কঠিন সময় কেটেছিল |

পরিশেষে আমরা শ্রেয় মনে করলাম রাতভোর সফর
বিচ্ছিন্ন তন্দ্রা কিছু কেড়ে নিয়ে
সাথে, কানের ভিতর সমস্বরে গাওয়া গুঞ্জন,
শুনিয়ে, যে সমস্ত ব্যাপারটা একটা নিছক পাগলামি |

তারপর প্রাতে আমার নেমে এলাম তুষার রেখার নিচে
এক আর্দ্র, ভেষজ গন্ধমাখা নাতিশীতোষ্ণ উপত্যকায় ;
যাতে বহমান এক স্রোতস্বিনী, ও আঁধার হটাতে ব্যস্ত এক জল-যাঁতাকল,
আর অধঃ-আকাশপটে তিনটি গাছ ;
এবং, এক আদিম সাদা ঘোড়া তৃণভূমি মাঝে ছুটে গেল দ্রুত কদমে |

ক্রমশ আমরা পৌঁছলাম এক সরাইয়ে, যার চৌকাঠ ঢাকা দ্রাক্ষালতার পাতায়,
এক খোলা দরজায় ছ’জন খেলছে পাশা, রৌপ্যমুদ্রার আশে,
পা দিয়ে রিক্ত মদিরা-মশকে লাথি মেরে মেরে |
কিন্তু সেখানে মিলল না কোন সংবাদ, অতএব আমরা এগলাম
ও খুঁজে পেয়ে সেই স্থান, উপনীত হলাম, ঠিক সন্ধ্যায়,
এক মুহূর্তও আগে নয়, যা ছিল সন্তোষজনক (বলা যায়) |

এত সব ঘটেছিল বহুকাল আগে, আমার মনে পড়ে
এবং, লিখে নাও, আমি করব তার পুনরাবৃত্তি
লিখে রাখ উক্তি
এই : আমরা কি পরিচালিত হয়েছিলাম ওই সমগ্র পথে
আবির্ভাব বা তিরোধানের পানে ? হয়েছিল এক আবির্ভাব, ইহ নিশ্চিত
আমরা পেয়েছিলাম সন্দেহাতীত প্রমাণ | আমার তো দেখা ছিল জন্ম ও মৃত্যু
কিন্তু ভেবেছিলাম যে তারা ভিন্ন ; এই আবির্ভাব ছিল
মহাপ্রয়াণ সম, আমাদের মৃত্যু ; আমাদের পক্ষে কঠিন ও উগ্র যন্ত্রণাময় |

আমরা ফিরলাম, যে যার  দেশে দেশে, এইসব রাজত্বে
কিন্তু এখানে,  এই পুরাতন বিধি-বিধানে, আর নেই সেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ
নিজস্ব দেব-দেবতা আঁকড়ে পড়ে থাকা ভিনদেশীদের মাঝে
আর এক মৃত্যু, আমি সানন্দে বরণ করব  ||

---------------------------------------------------
অনুবাদ © ইন্দ্রনীর / ১৯ জুলাই ২০১৫

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০১৫

প্রেমের উদ্ভব

This Bengali translation of the poem “The Birth of Love” by  Robert Penn Warren, is for my friend Shyamal Mazumder who had first posted it in one of the FB groups both of us belong to:

|| প্রেমের উদ্ভব ||


বিলম্বিত ঋতু, বিলম্বিত দিন, সূর্য সদ্য অস্তগত, আর আকাশ
নিরুত্তাপ পিতল, কিন্তু সজীব গোলাপের ছোঁয়ায় রঞ্জিত
মেয়েটি সেই জল, আকাশবর্ণ  - শুধু যেখানে তার উত্থান
সেখানে খানখান. থরথর রুপোর টুকরো কুচি কুচি -
ছেড়ে উঠে এসে দাঁড়ায় সদ্যজাত ঘাসে
স্প্রুস গাছে এখন নব-ঘনীভূত নিশার বিপরীতে
তার নগ্নতা ঝিকমিক করে উঠে, আর ঝরে তার
বুক আর মাজা হতে প্রবহমান রুপালি রেখায়

পুরুষটি কিছু হাত দশেক দুরে এখন লম্বিত
গতিহীন,  ওই পিতল জলে তার পা  শীতল
মৃত্যুর হিমেল গভীরতায় | তার সত্তা হতে বিলুপ্ত
সমস্ত ইতিহাস আর কিছু নয়, শুধু এক চোখ |
শুধু মাত্র এক চোখ -

দেখে, তার, আর সময়ের, উপভোগে চিহ্নিত ওই দেহ
উঠতে, আর অপ্রত্যাশিত স্খলিত বাতাসের পরিবেশে
দুলে উঠে, ঝুঁকে আঁকড়ে ধরতে পল্বল কূল |
দেখে কী ভাবে সেই নারীসুলভ অপ্রস্তুত ভঙ্গিমায়
সহসা উপলব্ধ এক সৌষ্ঠবতার প্রচেষ্টায়,
স্তনদ্বয় নিজস্ব অনাবিল বক্রতার ভারে অধোমুখে স্ফীত হয়
আর শ্রোণীর উত্থানে রচে চন্দ্রোদয়,
উথলিত ঐক্যে উভয়ে ঝিকমিকে রুপালী

এরপর দেহ তার ঋজু হয়, সে - যেই সে হোক - হয় আত্মস্থ
দু’হাতে তোয়ালের দুই প্রান্ত ধরে সে করে আকর্ষণ
তার পিঠে, নিতম্বে, আগু-পিছু - মুখ তুলে উচ্চাকাশে
যেখানে অতি-রঞ্জিত গোলাপি আভাস এখন ক্ষীণ
ম্রিয়মাণ, যদিও সেখানে এখনও নেই কোন তারার স্পন্দন
তার তোয়ালে এখন বিস্মৃত, গতিহীন স্থির
শুধু তার চাহনি রয়ে যায় আকাশে নিবদ্ধ

স্প্রুস গাছের আঁধার পটভূমিতে তার দেহের পরিলেখ যেন
মনে হয় নিজেরই প্রতি আকৃষ্ট, আর তার শুভ্রতায় ঘন হয়ে ওঠে
সেই আলো, যা এখনও আকাশে স্থায়ী,
অথবা জলের পার্থিব বিমূর্ত কঠোরতা হতে উত্তোলিত |
তার দেহ, এখন হাতে ঝুলন্ত তোয়ালে নিয়ে,
এক শুভ্র বৃন্ত যা থেকে তার পুষ্পিত মুখ উচ্চাকাশ পানে চায় |
এই মুহূর্তটি চরম, যার নেই কোন অনুক্রম, নেই কোন স্বীকার্য সংজ্ঞা
কেন না আর সমস্ত অনুক্রমিক মুহূর্ত তাতে বিলীন, সংজ্ঞা-সক্ষম

মেয়েটি, মুখ এখনও তোলা, এক নিদ্রালসা অঙ্গবিক্ষেপে
তোয়ালেটা জড়িয়ে নেয় তার স্তনের নিচে তার দেহে,
তারপর ঐভাবে তাকে ধরে, বিলুপ্ত মিশরের ঋত্বিকের মত
ঋজু হয়ে উঠে যায় আগাছার হিজিবিজি জটে পাক খাওয়া
সিঁড়ির ধাপ কাটা পথে |  আঁধার ঝরানো পাতার জাফরি পেরিয়ে
তার ক্ষীণ শুভ্রতা নিবুনিবু জ্বলে | জ্বলে উঠে হয় তার অন্তর্ধান |

আর অন্ধকারময় মাধ্যমে লম্বিত পুরুষটি উর্দ্ধপানে চায়
যেখানে সে জানে, অগোচরে, মেয়েটি সঞ্চারিণী |
আর সে তার হৃদয়ে আর্তনাদ করে ওঠে,
যে যদি তার সামর্থ্য থাকত, তাহলে সে হাত বাড়িয়ে ধরে রাখত
মেয়েটির উপর, তার সমস্ত গমনাগমনে তাকে রক্ষা করতে
যখন যেমনই হোক, আকাশের রুক্ষতা আর জগতের আবহাওয়া থেকে

সে দেখে স্প্রুস গাছের নিশার উচ্চতা আর উত্তোলিত দূর পাহাড়ের উপরে
প্রথম তারার অস্তিত্ব স্পন্দনে জেগে উঠে ঝিকমিক করে সেথায় |

আমি জানি না ওই তারা তাকে কী প্রতিশ্রুতি জানায় |

------ রবার্ট পেন ওয়ারেন

অনুবাদ: ©  ইন্দ্রনীর / ১১ জুন ২০১৫
----------------------------------------------------

|| The Birth of Love ||
(The Original Poem)

Season late, day late, sun just down, and the sky
Cold gunmetal but with a wash of live rose, and she,
From water the color of sky except where
Her motion has fractured it to shivering splinters of silver,
Rises. Stands on the raw grass. Against
The new-curdling night of spruces, nakedness
Glimmers and, at bosom and flank, drips
With fluent silver. The man,

Some ten strokes out, but now hanging
Motionless in the gunmetal water, feet
Cold with the coldness of depth, all
History dissolving from him, is
Nothing but an eye. Is an eye only. Sees

The body that is marked by his use, and Time’s,
Rise, and in the abrupt and unsustaining element of air,
Sway, lean, grapple the pond-bank. Sees
How, with that posture of female awkwardness that is,
And is the stab of, suddenly perceived grace, breasts bulge down in
The pure curve of their weight and buttocks
Moon up and, in swelling unity,
Are silver and glimmer. Then

The body is erect, she is herself, whatever
Self she may be, and with an end of the towel grasped in each hand,
Slowly draws it back and forth across back and buttocks, but
With face lifted toward the high sky, where
The over-wash of rose color now fails. Fails, though no star
Yet throbs there. The towel, forgotten,
Does not move now. The gaze
Remains fixed on the sky. The body,

Profiled against the darkness of spruces, seems
To draw to itself, and condense in its whiteness, what light
In the sky yet lingers or, from
The metallic and abstract severity of water, lifts. The body,
With the towel now trailing loose from one hand, is
A white stalk from which the face flowers gravely toward the high sky.
This moment is non-sequential and absolute, and admits
Of no definition, for it
Subsumes all other, and sequential, moments, by which
Definition might be possible. The woman,

Face yet raised, wraps,
With a motion as though standing in sleep,
The towel about her body, under her breasts, and,
Holding it there hieratic as lost Egypt and erect,
Moves up the path that, stair-steep, winds
Into the clamber and tangle of growth. Beyond
The lattice of dusk-dripping leaves, whiteness
Dimly glimmers, goes. Glimmers and is gone, and the man,

Suspended in his darkling medium, stares
Upward where, though not visible, he knows
She moves, and in his heart he cries out that, if only
He had such strength, he would put his hand forth
And maintain it over her to guard, in all
Her out-goings and in-comings, from whatever
Inclemency of sky or slur of the world’s weather
Might ever be. In his heart
he cries out. Above

Height of the spruce-night and heave of the far mountain, he sees
The first star pulse into being. It gleams there.

I do not know what promise it makes him.

—Robert Penn Warren