কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২৫ মার্চ, ২০১৬

প্ল্যটনিক সন্নিধান



|| প্ল্যটনিক সন্নিধান ||

ঘটনাটা নয় নতুন, না আহামরি
প্রায়ই শুনি, “এই রে ! কী করি ?
কী হবে ? একদম গেছি ভুলে !”
বোনা থামিয়ে নিভা উল খোলে
বুঝি নিভার দিশা হীন দৃষ্টি হতে
ভুলে গেছে নিভা ঘর ফেলতে !

চিরকালই নিভারা ঘর তুলে যায়
সোজা বুনে যায় কাঁটায়, কাঁটায়
গোলাপি উলে গোলাপের নক্সা
ঘরে ঘর মেলে, বুনট হয় একসা
কিন্তু এক মুহূর্তে ঠিক ভুলে যায়
যে সময় এলে ঘর ফেলতে হয়

সেই ভুলেই কারাবন্দী হয়ে থাকি
কাঁটায়, গোলাপে অসহ্য একাকী
নিভার কোলের ওমে উত্তপ্ত উলে
চেষ্টা করি থাকতে স্বাধীনতা ভুলে
এক ভাই-বোন প্ল্যটনিক সন্নিধানে
সে বুনে যায়, খোলে আবার বোনে ||

© ইন্দ্রনীর / ২৪ মার্চ ২০১৬

বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০১৬

হোলি

|| হোলি ||


তোমার সঙ্গে আমি খেলি নি, খেলি না হোলি
তাও কী করে লেগেছে এত রং, শোন তা বলি

আবির উড়িয়ে পথের ধুলোয় তুমি নাচো গর্বে   
না জেনে, যার বুকে পা সে অকারণে জ্বলবে
হাতে যার পিচকারী, জানো না সে অন্য কৃষ্ণ
তার কুমকুম রং তরল, তার উত্তাল হৃদয় উষ্ণ
রঙের ধূম্রজালে রামধনু আঁকে সে একা একা
কী যায় আসে তার, তোমার সিঁদুর তো পাকা
সে দেখে আবিরে চিকচিকে খুদে অভ্রের কণা
জানে তুমি খেলবেই, কিছুতে করবে না মানা
জানে সে মুখ থেকে মুছে দিয়ে সব প্রণয়ের রং
তার রাঙা হাতের মঞ্জনে করবে আহরণ শিহরণ

আমি দেখে এই সব হই বিপর্যস্ত হতে পর্যদুস্ত
মুখ ঢাকি আনকোরা হাতের তালু করে প্রশস্ত
পরে দেখি আয়নায় ভীরু দুর্বল কাপুরুষ চিতে
মুখে লেগেছে কত রং, যত তুমি পার নি দিতে ||


-----------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ২৩ মার্চ ২০১৬

বৃহস্পতিবার, ১৭ মার্চ, ২০১৬

চুরি

|| চুরি ||

তোমাকে নিয়ে আমার দেহ মোহ ঘোর শর্বরী
ভোর যতক্ষণ হয় না, কাটে না তার খোয়ারি
কে বলেছিল ঘুমাতে খুলে রেখে সপাট দোর
কোথায় লুকাবে বলো নিশুতি রাতের চোর ?

খোলা ছিল তোমার সব কিছু, ছড়াচ্ছিল ঘ্রাণ
ভ্রূণ ভঙ্গিমার ভাঁজে শিথিল শরীরের আহ্বান
হাসনুহানা, কি শিউলি, কে ছিল আমার সাথী
দু’জনে দৃষ্টিহীন, আঁধারে লুটেরা দুই অতিথি

কী ছিল তিথি, অমাবস্যা, একাদশী, না পূর্ণিমা
মোহের কুণ্ডে বিসর্জিত ছিল তোমায় প্রতিমা
তোলপাড় তোমার শরীরে শুধু নিশ্বাসের ঢেউ
সাক্ষী একটাও রাখি নি, দেখে নি চুরিটা কেউ

পূব আকাশে লজ্জার লালিমা, উঠছে সোনা সূর্য
প্রকাশ্যে দিবালোকে পালাবো, তাই ধরেছি ধৈর্য
শর্বরী, তুমি ঘুমিয়ে থাকো, বিশৃঙ্খল রাখো অঙ্গ
কী ক্ষতি যদি এই ভাবে চুরাই তোমার অনুষঙ্গ ?

প্রমাণ হিসাবে হাতিয়েছি শুধু তোমার চুলের কাঁটা
খোলাচুলে ঝুলবারান্দায় এসো, যখন বাজবে নটা
আমি যাব নিচের পথে, পকেটে মনিহারী দোকান
শুনিও, “এই যে ... দুটো চুলের কাঁটা দিয়ে যান |”

------------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ১৭ মার্চ ২০১৬

শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৫

রূপাখ্যানপুরের কথা

|| রূপাখ্যানপুরের কথা ||

চলো নিয়ে যাই তোমাকে রূপাখ্যানপুরে
বায়বীয় ময়ূরকণ্ঠী এক মহাকাশের তীরে
যেখানে লোকে
আজীবন জনশ্রুতি শোনে
তারই কথা বলবো এখন, শোন একমনে

সেই পৃথিবী নীহারিকার সপ্তসাগর পারে
লোহিতাভ সৌরমণ্ডলে ঘুরপাক খেয়ে মরে
সাঁঝ আকাশে বিধুর তার নারঙ্গি গোধূলি
স্বপ্নিল আবেশে বিবাগী করে পুরুষালি

আবিল আশে বিমোহিত পুরুষমানুষ ধায়
জমায়েত হতে জলসাঘরে, টলমল পায়

মন্থর যাম নিশ্চল হয় নিশিডাকের প্রহরে
ঝাড়বাতি জ্বালে অগুনতি জোনাকির ঝড়ে

জ্বলে নেভে মৌচাকময় কাঁচসবুজ আলো
ঐ মায়াবী আলেয়ায় কামনা ঘনায় কালো
কথা হয় শুরু - কেউ বলে, শোনে অন্যে
দূরদূরান্তে কে দেখেছে কত সুন্দরী কন্যে

কী আশ্চর্যে যে লাগে শিহরণ, জাগে বিস্ময়
‘জ্ঞাত চরাচরে সুন্দরী সত্যি এমনতরও হয়
সত্যিই পাওয়া যায় এমন পরী ডানাকাটা ?’
স্বগৃহে তো দেখেছে তারা বউই সাদামাটা

পেঁচিয়ে বেণী সেই
গৃহিণীরা পেলব অঙ্গুষ্ঠে
বাঁধে চুল, কুমকুম বরণ তাম্বূল-রাঙা ওষ্ঠে
আঁচলের পরিপাটি ভাঁজে ঢাকে উৎসুক বুক
নিরুদ্ধ হৃদয়ে লুকিয়ে প্রথম বর্ষার ডাহুক

সবুর করে মিলনের, যা হবে রাত্রির গভীরে
শীতল বিছানায় দিশাহারা উত্তাপের সঞ্চারে
অবশ্যই আরম্ভ প্রশ্নে, “সে কত সুন্দরী ?”
চিরন্তন যে দ্বন্দ্বে যুঝেছে প্রেমাতুরা নারী

ফিরে, শয্যায় কাপুরুষ মুখ লুকায় আঁচলে
উদ্যত চিবুক গ্রীবার তলে, সুরভিত কমলে
মুমূর্ষু হয়ে অনির্বাণ কামনায়
কেঁপে কেঁপে
খোঁজে উপশম জুড়ানো শরীরের সংলাপে

বোঝায়, ‘ছি! সুন্দরী সে, প্রেয়সী তো তুমি !’
লালা সিক্ত ঠোঁটে চষে নাভিমূল মালভূমি
ক্রমশ রুক্ষ বাঁধন খসে, নম্র হয় আলিঙ্গন
কোমরের জোয়ারে দোঁহে দেহ করে আচমন

ঘনিষ্ঠ হয় আলাপন, মায়াবী রাত্রিও ঘনায়

সুন্দরী
র স্বপ্ন পুরুষের মানসে উপে মিলায়
স্বপ্নে যায় মিলেমিশে বিদেশিনী কি গৃহিণী
ঊষায়, বাহুতে ঘুমায় ক্লান্ত তৃপ্ত বিরহিণী ||


---------------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ০6 ডিসেম্বর ২০১৫

রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৫

কুন্তলা

|| কুন্তলা ||


অধুনা-লুপ্ত একদাকে ঠাঁই দিয়ে এই গ্রামে
শিথিল বহমান সময় যেন গিয়েছে থেমে
সাড় হীন, চিৎপাত, গেরুয়া খোয়াই মাঠ
নিটোল আরশি সরসীর স্নানার্থী রিক্ত ঘাট
নিরুদ্দেশগামী ক্ষয়িষ্ণু পথেরা ধুলো ভরা
ছায়ামাখা সাকিন, দেয়াল নোনা, ঘুণ ধরা
দুরে মন্দাকিনীর বিলে পানা ছাপায় দুকুল
চূর্ণ চুনি সবুজ শ্যাওলা মাখা শিব দেউল
একা বেওয়ারিশ কুকুর, নামেমাত্র কুবের
বসে থাকে, মুখ চেয়ে যুধিষ্ঠির পুরুতের

এক প্রান্তে ঘুমন্ত অট্টালিকার তেতলায়
কার্নিশ বিহীন ভাঙ্গা খড়খড়ির জানালায়
ডুরে আলো-আঁধারিতে আবলুস খাটে
পা ছড়িয়ে বসে কন্যা চুলে বিলি কাটে
দাঁতভাঙ্গা গজদন্ত চিরুনি, চিকন হাতে
আংটির দাগ বসে নি যার অনামিকাতে
যার কপাল এখনো ছোঁয় নি বিন্দু সিন্দূর
মুখে চেয়ে তার চাঁদ রাতে মেঠো ইন্দুর
থমকে হয় এক চিরন্তন দিবাস্বপ্নে বিলীন
রাজকুমারের আগমন কি এতই কঠিন ?

কিন্তু আসে না কখনই কোন রাজকুমার
থেমে থাকে সময়, তবু শত যুগ হয় পার
যদি দূর হতে লোকজন নিয়ে বাস আসে
মন্দাকিনী পারে নলহাটি হাটের ওপাশে
কিছু লোক ওঠে, নাম দুই-এক অচিন মুখ
আশ ভরে শ্বাস নেয়, তবু ভরে না বুকে সুখ
কখনো কেউই পার হয় না ওই খোয়াই মাঠ
কেনই বা পার হবে ? আলাই-বালাই ষাট !
শুনেছে তারা এক ডাকিনীর কুহকের কথা
আজানুলম্বিত চুলে বেষ্টিত যার সুচারু মাথা
সে নাকি নামিয়ে তার কুন্তল পাতে ফাঁদ
যখন চারিদিক সুনসান, ফুটন্ত চাঁদনী রাত
তারপরে ফেলে দিয়ে সেই গজদন্ত চিরুনি
শুধায়, “এই, এত দিন কেন তুমি আস নি ?
এসেছ, তো আঁচড়ে দাও আমার এই চুল”
ব্যাস ! ওখানেই হবু রাজকুমার করে ভুল
যেই সে সেই ভাঙ্গা চিরুনি চুলেতে ঠেকায়
অমনি কোথায় চুল,  কুন্তলাই বা কোথায় ?
হারায় একদা, সময় চমকে জাগে বর্তমানে
নিঃসাড় গ্রাম জেগে ওঠে প্রাণের স্পন্দনে

হতে কি পারে না এমন, সত্যি ? বিলকুল !
হোক মিথ্যা, অবাস্তব কল্পনা, মায়ার ভুল ||


--------------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ০৮ নভেম্বর ২০১৫

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৫

অপ্রেমসুখ

|| অপ্রেমসুখ ||


আর তো প্রণয় সুখ জাগে না এই বুকে
সময়ের খাঁজে ভাঁজে গিয়েছে সে চলি
সারা রাত চাঁদ, নীহারিকার তারকাগুলি
মেলায় আঁখি, করে অস্ফুটে কী বলাবলি

স্মরি, একদা এক বালুচরে তুলিয়া মাথা
চাহিয়া আকাশে, এক বধ্য হরিণ শাবক
দেখিয়াছিল কাশবন হতে চাঁদ পানে
নীরবে উড়িয়া যায় শত সহস্র শুভ্র বক
তাহাদের মাঝের সম্পর্ক হীন ব্যবধানে
দ্বিধাহীন সাবলীল গতির একাকী উড়ানে
ছিল এক নির্বাক নিষ্পাপ সংকেত যেন
প্রেমহীন জীবনের অবাধ স্বাধীন বিচরণে
কাটিবে না তাহারই বা এ জীবন কেন ?
তখনই তটিনীর স্রোতে দেখিল সে মুখ
দেখিল হরিণ নয়নে জাগিয়াছে এক সুখ
জলতরঙ্গে কাঁপিয়া উঠিলে তাহার শিহরণ
করিল সে সলিলে ব্যাকুল আত্মা নিমজ্জন

সেই হতে আর প্রণয় জাগে না এই বুকে
খুঁজি আমি সময় সলিলে সমাধিস্থ শাবক
বুঝি না আছি কি আনন্দে, নাকি বড় দুখে
দেখি শশাঙ্কের বুকে ছাওয়া বকের কুহক ||


-------------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ৩০ অক্টোবর ২০১৫

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৫

মুখোশ

|| মুখোশ ||


এই দ্যাখ না খাপ খুলেছি, নামিয়েছি মোর কাছা
ভয় পাস কি, ওরে আমার ভদ্দরনোক যত বাছা ?
শরীলটায় যে বড্ড গরম, খুব দরকার করি নাই
কিন্তু ভায়া পষ্কের জল বলতো কোথায় পাই
তাই পাবলিকে উদোম গায়ে লাগাই ঠাণ্ডা হাওয়া
তাতেই মেটাই হ্যাংলা চোখের যত চাওয়া পাওয়া
কী বললি, খোলা ন্যাংটামি সুশীল আচরণ নয় ?
তবে যে বলে, ন্যাংটোর নেই বাটপাড়ের কোন ভয়
কেন বলছি ? আসলে খাপে নেই কোন তলোয়ার
নিন্দুকেরা বোঝে না মোটেই, রহস্যময় সব ব্যাপার
আসলে আমার খাপই সার, সার ওই কোঁচান কাছা
কেউ জানে না ভদ্দরনোকের মুখোশটা অতি ওঁছা ||


---------------------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ২৯ অক্টোবর ২০১৫

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৫

আদিম পুজো

|| আদিম পুজো ||


জি-টাউনের ঘাসি ক্লাবের দুর্গা পুজোর কাজে
ম্যারাপ বাঁধা দিন-কয়েকের বিশাল ছাঁদনাতলা
সকাল ভাঙে শঙ্খ, ঢাক আর কাঁসরের আওয়াজে
সন্ধ্যে হলেই ফুলপরীদের চাঁদনী হাটের মেলা

সদলবলে কার্তিক সব মৌজুদ হয় একপাশে
গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, হাতে কোমর বেঁধে,
দেখে পরীরা আসছে ফুলেল এসেন্স আতর বয়ে
রেশম শাড়ি সেফটিপিনে আঁটকে সুডোল কাঁধে

শামিয়ানার খুঁটির গায়ে লাল -হলুদ-নীল বাতি,
বর্ণালী তার, চোখের চাউনি করে দেয় ঘোরালো
তার বাইরেই হাতছানি দেয় নিকষ আদিম রাতি
হ্যাজাক আর পেট্রোম্যাক্সের আলোয় ঝলোমলো

রাত বাড়লে ভিড় কমে যায়, ঝিমিয়ে পড়ে ঢাক
পরীরা সব ঘুম চোখে নিয়ে ফিরে যায় যে যার বাড়ি
শুধু রয়ে যায় দশভুজা মা, আর এক নারী নির্বাক
দুই দুর্গায় অনেক তফাত, অনেক দিনের আড়ি

দশভুজার শ্রীচরণ তলে সিংহ আর মহিষাসুর
দুই পাশ ঘিরে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী
আর এই দুর্গা শান্ত বসে হর্ষে-বিষাদে মেদুর
আপন মনে চায় কি কারো গোপন অঞ্জলি আরতি ?

প্রতি বছর অষ্টমী রাতে চুপিসারে আসে অসুর
নিঃশব্দে বাইরে থামিয়ে গাড়ি নেভায় সব বাতি
প্যান্ডেলের শেষে দাঁড়িয়ে, মুখে সিগারেট জ্বেলে,
কব্জি ধরে চেপে দেখে তার হারছে নাড়ির গতি

বছর কয়েক আগে একবার সে দুর্লভ দুঃসাহসে
একটি রাতের জন্য হয়েছিল প্রেমিক প্রবর অসুর
আলো আঁধারে আদিম রাতে আবেগের অনুপ্রাসে
শুনিয়েছিল এই অবলার কানে প্রেমের আগমনী সুর

সেই অবলাটি কোন অজান্তে হল একদিন নারী
ইচ্ছে হল দেবীর বুক থেকে দেবে অসুরকে নির্বাসন
অসুরও আবার ঘুরে ফিরে কাপুরুষ হয়ে বেচারি
ত্রিশূল ফলায় বুক পাতবার চিন্তা দিল বিসর্জন

এই ভাবেতেই প্রতি বছর ঘাসি ক্লাবের পুজোয়
শুরু করা এক আদিম পুজো আর যে হয় না সারা
দুর্গা, অসুর, কার্তিক আর ফুলপরীদের ভাব দেখে
মেঘের আড়ালে মুখ লুকায় চাঁদ, শিউরায় তারারা ||


----------------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ১৫ অক্টোবর ২০১৫

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৫

যা মা

|| যা মা ||


আর তো মা সয় না এই বুকে দুখ
দৈন্যের মাঝে তোর রূপ খোঁজা
“গ্রাম ছাড়া ওই রাঙ্গা মাটির পথ”
রক্তে রাঙ্গা মা, রক্তে রাঙ্গা, দ্যাখ ...
কী করে বই বল এ’ ব্যথার বোঝা ?

খরার পর খরা এলো আর গেল
শুকলো খাল-বিল, পুষ্করিণীর জল
শরীরের ঘাম কী, রক্তও শুকলো
ফাটল মাঠ, ঘাট, আর কত বুক ...
খরা চোখে ফোটে কি নীলোৎপল ?

তাই বলি মা, আর আসিস না ঘরে
পারব না মা দিতে পুষ্পের পুজো
দারিদ্রের বোঝায় ধুঁকছি সব মোরা
সইছি নীরবে অনশনের অপমান ...
ঝুঁকেছে মেরুদণ্ড, পিঠও কুঁজো

আসিস নে মা, আর আসিস নে
দূর থেকে যা পুজো নেবার, নে
দারিদ্রের রোগ ছুঁয়েছে সবাইকে
ধনী, নির্ধন, লোভী, পাপী, পুণ্যবান ...
যা মা, এ জগতে আর পা দিস নে  !!

-------------------------------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ১৩ অক্টোবর ২০১৫

মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৫

মা আসছে

|| মা আসছে ||


ঝরছে শিউলি, দুলছে কাশের জটলা প্রভাতী বাতাসে
মা আসছে ? আসছে, আসুক, আমার কী যায় আসে !

মা আসে যায়, ধুপে আর ছায়, উঠোনে, বাটে, ঘাটে
স্মৃতি চলে যায় শিকল আঁটকে, সংসার তুলে পাটে
মেঘ কেটে ওঠে উজ্জ্বল রোদ, জ্বলে পোড়ে এক মন
‘মা বলিতে প্রাণ করে আনচান’, শুনি মন্দ্রিত উচ্চারণ
কেন তুমি আসো মা, চুপি চুপি এসে আঁচলে মুছে মুখ
শুনে নাও আমার জীবনের কথা, মিশে আছে সুখ দুখ
এ যাত্রায় আর হোলো নাকো সারা শুরু করা সব কাজ
তোমায় সাজিয়ে ঘরে যে আনব, সে আশা দুর্লভ আজ

তাও আসছ ? বুঝেছি, দেখতে আছি আহ্লাদে না ক্লেশে
দেখো আমি আছি কাশে, শিউলিতে, প্রভাতের আবেশে  ||


--------------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ০৬ অক্টোবর ২০১৫

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

কাপুরুষ

|| কাপুরুষ ||


উপর থেকে উদাস চোখে মিছিল দেখি
নিচে নেমে শামিল হওয়ার নেই মানস
আলগা থেকে প্রায়ই দেখি হচ্ছে জবাই
কাছে গিয়ে হাত থামানোর নেই সাহস

পথে ঘাটে রোজ যত যাই অন্যায় ঘটে
মুখে মুখে কারো কত অপবাদ যে রটে
আমি সব শুনি, চোখ এড়িয়ে সব দেখি
সাহস নেই, যাচাই করার আসল, মেকি

উপরে উঠে আমি নিজেই লেঙ্গি মেরে
ওঠার সিঁড়ি ফেলে দিয়েছি ধপাস করে
সেই নিচে কারা বহাল দেখ ঐ পিলপিল
কত স্লোগান, হট্টগোল আর কত মিছিল

মাঝে মাঝেই তারা কাউকে গলাটা ধরে
নিচে ফেলে লাথি, ঘুসি, কিল, চড় মেরে
আস্তে, আস্তে, হালাল করে জবাই করে
আমার জায়গায় বেকসুর লোক যায় মরে

আমি চুপটি করে থাকি, সব দেখি নিশ্চুপ
আজকাল আমার এ’টাই হল আসল রূপ
মুখ খুললেই পাছে তারা দেখে আমাকে
সমস্বরে চেঁচিয়ে বলে, “মার ঐ শালাকে !”


--------------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৫

বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৫

ভুলো মন

|| ভুলো মন ||

এরপরও আসবে প্রতি বছর তার জন্মদিন
কিন্তু সে হবে না আর উনষাট কোন দিন
কালই তো ছিল সে আমার সখী পূর্ণযৌবনা
ষাটে পা দিলে কি তার সে অপরূপ দেখব না
বহুকাল আগে এক দুপুরে মিহিজামে নেমে
পড়েছিলাম চিত্তরঞ্জনের এক গোলাপের প্রেমে
তখন সে মাত্র চব্বিশ, মাখনে সিঁদুরের ছোঁয়া
অনাঘ্রাত, মায়ের স্নেহের শিশিরে সদ্য ধোয়া
বাসর জাগিয়ে কেঁদেছিল রাত ভোর কী বৃষ্টি
থামলে অঝোর ধারা, ধরে তার নম্র হাত মিষ্টি
গাঁটছড়া সামলে শুধু দুজনে ইতস্তত পায়ে
পরনে বেনারসি, জড়োয়া গহনা ছিল গায়ে
পথে নেমেছিলাম সাথে, পথচলা করে শুরু
পিছনে ফিরে সে আর চায় নি চোখে ভীরু
এত শত অনুরাগ, ভাব, ভালবাসা, অভিমান
সময়ের সাথে বেড়ে কমে হয়েছে ম্রিয়মাণ
আজ সুকন্যা পাঠিয়েছে ছবিতে মাকে ফুল
শুভ দিনের শুভেচ্ছা, অনুপস্থিতিতে ব্যাকুল
স্কুলের বাচ্চার শুধবে, “মিস, আজ কী দিন ?”
আমিই বলি নি জাগিয়ে তাকে, “শুভ জন্মদিন !”


----------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ১৯ অগাস্ট ২০১৫

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৫

স্বাধীনতা

|| স্বাধীনতা ||

তুমি নামিয়ে  নিশানা থেকে দৃষ্টি
সরিয়ে নাও ঘোড়া থেকে আঙ্গুল
জিন থেকে উঠে নেমে পড় তুমি
নামিয়ে নাও রেকাব থেকে পা
তুমি আমার লাগামটা খুলে দাও
খসিয়ে দাও আমার পায়ের নাল

গলায় ভরে এক উদাত্তকণ্ঠ মন্ত্র
বলো, শেষমেশ আমি স্বাধীন হব
শোনাও পাগল, উদ্বুদ্ধ করা গান |

...
আশায়, সত্যিই আমি স্বাধীন হব
ছুটে যাব বল্গাছাড়া সীমাহীনতায়
ইচ্ছে জাগে, ফিরে পাই বিশ্বাস

কিন্তু, সত্যিই কি আমি স্বাধীন হব ?
চাবুক তো এখনো তোমার হাতে
কাঁচা চামড়ার চাবুক, ছোটবেলার
যতবারই তুমি চাবুক মারো পিঠে
তুলে নিয়ে আমার পিঠের চামড়া
ফসল তোলো চাবুকেরই কাঁচামাল

তাই সত্যিকার স্বাধীনতা পেতে
জানি, আমাকে এঁড়ে হতে হবে
খসাতে হবে পিঠের মোটা চামড়া
আর কেড়ে নিতে হবে চাবুকটা |
তারপর তোমাকেই পিঠে নিয়ে
সীমাহীন ছুটে যাব লাগামছাড়া

দেখাতে কাকে বলে স্বাধীনতা ||

_________________________
© ইন্দ্রনীর / ১৪ অগাস্ট ২০১৫

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০১৫

অবসাদ



|| অবসাদ ||


হটাতই মনে পড়ে গেল এই দিনে, যৌবনের প্রাক্কালে
তোমার সাথে আলাপ বাক্যহীন, আড়ালে, আবডালে
তখনও হয় নি উন্মেষ আমার চিত্তে প্রেমের আভাস
জগত বলতে বন্ধুত্বই সব, দিবানিশি বন্ধুর সনে বাস
দেখা সাক্ষাতের নেই বাঁধাধরা ক্ষণ, সব প্রহরই ঠিক
বন্ধু এসে ডাকলে ছুটে যাব, হারিয়ে জ্ঞান, দিগ্বিদিক

তখন একদিন বন্ধু এসে বলল কৃষ্ণচূড়ার শীর্ষডালে
ফুটেছে ফুল, ভয় ঝরে পড়বে ঠিক পরদিন সক্কালে
ছুটলাম আমি, উঠলাম গাছে, বেয়ে তার শাখা প্রশাখা
ঝাঁকিয়ে ডাল নিচে ফেললাম, পড়ে ফুল হল ধুলোমাখা
সযত্নে ধুয়ে ডালায় সাজিয়ে দেখি ঝরেছে তার রেণু সব
সৌন্দর্য, শুচির বিভব নিয়ে ডালাটা নির্বাক ফুলের কলরব

তখন বন্ধু বলল, যা, সব তোর সেই মেয়েটাকে দিয়ে আয়
দিতে তোমাকে, ব্যথা দেখলাম চোখে গোধূলির অবেলায়
বন্ধুর সাথে হল ছাড়াছাড়ি অভিমানে, কৃষ্ণচূড়ার বাগানে
ভেঙ্গে গেল বুক, বুঝলাম সুখ, আসবে না আর জীবনে
সেই অবসাদ আজও বয়ে আমি এড়াই যত কৃষ্ণচূড়া
ভুলতে পারি না যে শৈশব শেষ, সব শরিক বিগত

আর, ভুলতে পারি না, প্রথম প্রেমে না পড়া ||

----------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ১০ অগাস্ট ২০১৫


শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০১৫

ক্রুশ

|| ক্রুশ ||

হিয়া তোমার মনের যত কানা অলি গলি
হদিস তার রাখে না কোন গুগল মানচিত্র
ব্রাউনিয়ান মোশনটা আমারও তো ফাজিল
পদক্ষেপ অনিশ্চিত, আসা যাওয়া যত্রতত্র
আমি নই টলোমলো, নই আমি তালকানা
তবু যেন পাকাবই তালগোল একটা কী
যেমন, যখন ভাবি পৌঁছেছি অন্তঃপুরে
কাছাকাছি এসে পাই, বন্ধ দুয়ার খিড়কি
সময়ের হিসাবে সে ক্ষণে ঘনায় ভরসন্ধ্যা
চাঁদ ওঠে, জলজ্যান্ত, অস্তগতর আভায়
তুমি খুলে জানালা পাও হাওয়ায় নিশিগন্ধা
আমি খুব খুঁজি চাঁদে, পৃথিবীর প্রতিচ্ছায়ায়
যদি দেখা যায় সেই পথ, যা পেতে হারাই
তখন অবাক হয়ে চাঁদ চায় মুখ ভেংচিয়ে
দেখায়, তার ঊষর বুকে ক্রুশ এঁকে লেখা
“ইউ আর হিয়ার !” দক্ষিন তর্জনী নাচিয়ে

হিয়া, আমি তো জানিই যে আমি তোমার !
তুমি কী আমার বুকে দেগে দেবে ক্রুশ তার ?


---------------------------------------
© ইন্দ্রনীর  ০৭ অগাস্ট ২০১৫

শনিবার, ১ আগস্ট, ২০১৫

এমন দিনে

|| এমন দিনে ||


এমন দিনে তোমাকে বলা যায় কি, মনে করো সেদিনের কথা
আমি টোটো করছি চাকরির বাজারে, তুমি কলেজে পাঠরতা
আমি খুঁজি শুধু ভিড় ভরা বাস, তুমি খোঁজ দুপুরের ট্রাম ফাঁকা
আমার পকেটে রেস্ত নেই, তবু তোমার বটুয়ায় অনেক টাকা
আমি চাই শুধু চা খাব, আর সেই সুযোগে পর্দা টানব কেবিনে
তুমি বল, “কিছু চিন্তা নেই, দেখে নিও একদিন পাবে মাইনে”
নিছক কিছু দেয়ার দায়ে কিনে দিই ছ’ খানা ফুল-ছাপ রুমাল
তা নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে তুমি মুখ গুঁজে হও লালে লাল
তারই মধ্যে একদিন কী বৃষ্টি, আকাশ গম্ভীর কাল মেঘে মেঘে
আমার আসতে দেরী হল একটু, দেখি তুমি আছ ভীষণ রেগে
সেদিন তোমায় দিয়েছিলাম প্রতিশ্রুতি প্রতি বর্ষা বাদল দিনে
তোমাকে নিয়ে চা খাব, খুলে পর্দা সেকালের রুমালী কেবিনে
তোমায় জন্য আমি কিনব প্রিয় ফুটপাথের ফুল-ছাপ রুমালটা
তখন তুমি আবার জানতে চাইবে, “তোমাকে কি দেব পাল্টা ?”

কী আর দেবে, ঢেউ তুলে যেও শাড়ি গুঁজে কোমরের আলনায়
দেখুক লোকে, তিলোত্তমার ছবি – প্রতিবিম্বিত জলের আয়নায় ||


-----------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ০১ অগাস্ট ২০১৫

শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০১৫

দৃষ্টিহীনের অপেক্ষায়

|| দৃষ্টিহীনের অপেক্ষায় ||


এইতো তুমি কেমন সুন্দর হাসি নিয়ে তাকিয়েছ দু’নয়নে
কী বলছি আমি এসো শুনে যাও, যা আছে অবলা বয়ানে
সিঁথিতে সিঁদুরের রেখা পরিখা, কপালে উজ্জ্বল লাল টিপ
নাক ফোটানো হীরের ফুল-নথ, দৃষ্টিতে সন্দেহের জরিপ
কুঁকড়ানো চুল সব বেণী খোলা, নেমে উচ্ছৃঙ্খল ঢেউয়ে,
তাঁতের শাড়ির ভারী আঁচল ঢেকেছে ভরা বুকখানি ছেয়ে
ঠোঁটে কিঞ্চিত বিদ্রূপ, কিছু ‘সবই বুঝি’ প্রলোভনের হাসি
অথচ সব সত্যেও রূপসী মুখটি কত যে পলকহীন উদাসী
শুনেছি প্রবাদ, তুমি নাকি এককালে ছিলে এপাড়ার মেয়ে
অবিতর্কিত সুন্দরী ; তবু বিবাদীর মতে, মাঙ্গলিক, অপেয়ে
তবে বলো, কী করে জোটালে সিঁদুর, টিপ, কণ্ঠে মঙ্গলসূত্র
কে সে ভাগ্যবান, তোমার হাতখানি ধরল কেমন রাজপুত্র

কী বললে ? মিথ্যা সব সাজ, এড়াতে পুরুষের লোলুপ দৃষ্টি
তুমি আছ এক দৃষ্টিহীনের প্রতীক্ষায়, কাটাতে তোমার রিষ্টি ||


-----------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ৩১ জুলাই ২০১৫

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০১৫

বায়বীয় স্মৃতি

|| বায়বীয় স্মৃতি ||

তুমি ছিলে আমার যাবতীয় – আমার প্রতিমা, আমার বিশ্বাস
আমার হৃদয়ের অন্তরতম কোষে সঞ্চিত অদ্ভুত জাদু নির্যাস
আমার সর্বাঙ্গে বিছিয়ে ছিল তোমার কুহেলিকাময় উপস্থিতি
তোমার আদরে খুঁজে পেয়েছি আমি মহাজাগতিক সম্প্রীতি

আমার বাহুতে শিথিল আত্মসমর্পণে তুমি দিলে শেষ আহুতি
এখন
লিপ্ত কপালে আমার, তোমার ভস্মিত সিঁদুরের বিভূতি
প্রেয়সী, তুমি চাঁদনী রজনী, তুমি দিবস মেদুর, বাদল-ছাওয়া
আজ আমার চাওয়ার আর কিছু নেই, সব হয়ে গেছে পাওয়া

তবু বলি, দূর বহুদূর চলে গেছ তুমি, সুবর্ণলোকের অন্তরালে
বলে গেলে না কেন এই লেখা ছিল আমার মসিকৃষ্ণ কপালে
তোমার চোখে তো আমি কতবারই দেখেছি আমার প্রতিকৃতি
কেন দেখি নি ভাগ্যে কী লেখা আছে ? এখন শোনো আকুতি -

একবার এসো ফিরে, সান্ধ্য সমীরে, উজাড় করে বায়বীয় স্মৃতি
শেষবার তোমাকে দেখতে চাই, টানবার আগে জীবনের ইতি ||


----------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ৩০ জুলাই ২০১৫

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০১৫

ভোরের বৃষ্টি

|| ভোরের বৃষ্টি ||


রাতভোর শুনেছি পা টিপেটিপে হাঁটার শব্দ
সকালে উঠে দেখেছি সারা উঠোন ভিজে
নিশুতিতে কে যে সে এসেছিল কাছাকাছি
বাইরে গুমরে ফিরেছে; ভিতরে আসে নি যে

রাতের গভীরে সে জানল আমি ঘুমে অচেতন
সকালটা তাই কি গুমোট, জমাট চাপা আঁধার
দেখলাম আকাশটা থমথমে কালো অভিমানে
হটাত নামল প্রবল ধারা, তোয়াক্কা নেই বাধার

এই আসার আশায় থেকেছিলাম কাল জেগে
চেয়েছিলাম আসুক না সে তার জোর খাটিয়ে
নামিয়ে আগল দোরের তাকে ডাকতাম, “এসো,
দাও আমায় সর্বস্ব, তোমার সব দ্বিধা কাটিয়ে” |
|

---------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ২৮ জুলাই ২০১৫

শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০১৫

জানতে হবে

|| জানতে হবে ||


আজ আবার আকাশ ভেঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়বে বৃষ্টি
ঘিরে নেবে চারিদিকে এক তুমুল বৃষ্টির দেয়াল
এও ভালো লাগে, পরপর দেয়াল ইটের, জলের
যখন মনের দেয়াল ভেঙ্গে বেরিয়ে আসে না মন
মাথায় পাহাড়, হাজার বর্ষাতি আশঙ্কার আচ্ছাদন

কিন্তু একি ? আকাশে যে মেঘ করেছিল জটলা
হওয়ার সাথে করছিল ঢলাঢলি, গায়ে পড়ে পড়ে
হটাত তারা কেন উপে গেল, কী হয়েছিল ? ও ...
আমি জানি, কিম্বা জানতাম উত্তরটা এককালে
ছোটবেলায় | লিখেও ছিলাম বাদলের খাতায়
কিন্তু বাদল তো ফেল করে করে পিছিয়ে গেল
আমি উঠে এলাম হাই স্কুলে, বাদল রয়ে গেল
এখন বাদল ট্যাক্সি চালায়, কখনও যাত্রী নিয়ে
কিন্তু জোর বৃষ্টি নামলে একা, একা কাঁচ নামিয়ে,
আর ওকে ঘিরে নিয়ে এগোয় বৃষ্টির ঝাপসা দেয়াল

একদিন বাদলকে ধরে জানতে হবে মেঘেরা কেন
থাকে ওর সাথে, অথচ আমাকে দেখে পালায় ||

---------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ২৫ জুলাই ২০১৫