রম্য ছড়া লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রম্য ছড়া লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৬

মেনি বিড়াল

|| মেনি বিড়াল ||


আমার বিছানায় জুটেছে এক বিড়াল
বড় দুর্বিনীত, অসভ্য তার আচরণ
শোনে না কোন কথা, আমায় চাটে
না আগে, না পরে করে আচমন
গায়ে হাত বুললে লেজ খাড়া করে
কষে পিঠ বেঁকিয়ে রুঠে সে দাঁড়ায়
চোখ সরিয়ে নিলে এসে গা ঘষে
ককিয়ে প্রেম, করে পাড়া মাথায়
তার ব্যবহারে সে মনে করায় কিছু
তোমার সঙ্গর ছোট বিস্মৃত কথা
কাছে থেকে তুমি হলে না গা-লাগা
চলে গেছ, সারা গায়ে এখন ব্যথা
ওর সাথে তোমার একটাই তফাৎ
মনে হয় ওর আমি ছাড়া কেউ নেই
তোমার স্তাবক মেনি হুলো বিড়াল
ইংরেজির মেনি মানে জানতোই !


--------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ১৭ এপ্রিল ২০১৬

রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০১৫

মধুমেহ

|| মধুমেহ ||

লাটসাহেবের ডাল কুকুরটা সাধে যেই না গলা ছেড়ে গান
মেনি, হুলো
পাড়ার বেড়াল, জড়ো হয়ে জোড়ে ঐক্যতান,
“শুরু হল ওই, সা-ভৌ, রে-ভৌ, গা-ভৌ, নি-নি, ধা-মা-পা
ব্যাটার কসুর, বড্ড বেসুর, নেইকো কোনও তালের হ্যাপা”

কিন্তু সে যেই ভোর বেলা সাধে হেঁড়ে গলাটিতে মধু মেড়ে
কী আশ্চজ্জি, তার মিড় নেয় লাটসাহেবের নেকনজর কেড়ে
সাহেব যেই তার পানে চায়, তোলে সে সামনের দক্ষিণ ঠ্যাং
লাটসাহেব কহে করমর্দনে, “গুড মর্নিং, হ্যালো ইয়ং ম্যান !”

লাটসাহেবের ডাল কুকুরটার গুটি চার ঠ্যাঙের অগুনতি কাম
যদিও শুনেছি সব নির্ভর করে, কি আগু পিছু, কি দক্ষিণ বাম
সামনের ডান ঠ্যাংটা সে তোলে সামরিক অভিবাদন মুদ্রায়
পাশের সদয় বাম ঠ্যাং ওঠে বরাভয়ে, দুপুরের ঘোর নিদ্রায়

কিন্তু সেই ডাল কুকুরটাই যেই তোলে কোন পিছনের ঠ্যাং
পরিত্রাহি বলে আঁতকে পালায় কি ব্যাঙাচি কি কোলা ব্যাং,
“ওই আসছে, আসছে দেখ ওই, তুমুল তোড়ে মুষলধারা
বন্যার জলে ভেসে যাব মোরা, ভাসবে লাটসাহেব বেচারা”

পিছনের ঠ্যাঙের এই পাঁয়তারা, এর চাহিদায় কুকুর কেনা
সেই কুকুরের দায়ে চুল বিকিয়ে সাহেবের আজ মেলা দেনা
পিছনের ঠ্যাং লাটে উঠিয়েছে বরাত সাহেবের, কী দুর্ভোগ !
কুকুর কেনার আগে কে জানত মধু মেড়ে হবে মধুমেহ রোগ ?


-----------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ০৯ অগাস্ট ২০১৫

শনিবার, ১১ জুলাই, ২০১৫

ঘোষ বাবু নির্ঘোষহীন

|| ঘোষ বাবু নির্ঘোষহীন ||


বকবকানির জন্ম দোষ, সামলে বসে শ্রীযুক্ত ঘোষ
গরম গরম সংলাপ সব, ভাবছে কিন্তু ছাড়ছে না
মনের কথা পেটে চেপে, পেট উঠেছে ফুলে ফেঁপে
ঢেকুর তুলে সমান তালে, তবুও ধ্রুপদ মিলছে না

সকাল, দুপুর, বিকেল, রাতি, ফেসবুকেতে মাতামাতি
বন্ধুদের কত যতন-আতি, তবুও যে কেউ সাধছে না
তেনার এই মান অভিমান, গোলা পেটে ধানি কামান
সলতে দিয়ে আগুন দিলেও, নিশানা তিনি দাগছে না

(আসল কথা বলি শোনো, আর কেউ না জানে যেন
মুখে কুলুপ এঁটে কেন, ঘোষ করছে বদভ্যাস হেন)

গিন্নি গেছে ছেলের বাড়ি, না, না ভাই নয়কো আড়ি
মান্ধাতার এই পোড়োবাড়ি, বেড়াল ছুঁচোর বাড়াবাড়ি
পালঙ্কে উঠে পেরেম পিরিত, করতে তারা ছাড়ছে না
পাড়ার বৌ, মেয়ে, ধাড়ি, আড় চোখে কী দেখছে না ?

হাঁড়ির খবর সবাই রাখে, চায় বাবুটা একায় যায় বখে
তারা আছে তাই আড়ি পেতে, বাবুটা মুখ খুলছে না
কোন কথাটার কী মানে, কে বুঝবে কেই বা জানে
ভালোবাসার ঢল বাজারে, ভাল বাসা যে মিলছে না ||


--------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ১১ জুলাই ২০১৫

সোমবার, ৮ জুন, ২০১৫

সাজ

|| সাজ ||

ঠোঁটে
লাগিয়ে লিপস্টিক, চোখে কাজল আর আইশ্যাডো
ঘাড় অব্দি বব-কাট ছেঁটে, ব্লাউজে
পুরে মালার টর্পেডো
শ্যাম্পু করে চুল ফাঁপিয়ে, দাঁড়িয়ে থাকিস তুই মার্কেটে
মুখ ফিরিয়ে ক’ জন
দ্যাখে, বল দেখি তুই, মেরে কেটে
নামিয়ে শাড়ি নাইয়ের নিচে, যতই উপচে দেখাস দেমাক
ধম্মের ষাঁড়ও তাকিয়ে চায় না, উড়িয়া পালায় পক্ষী-কাক
আর যে পরিস শাড়ির নিচে ওই ডবল, ডবল ফুলকো সায়া
না দিলে এই গুলটা, ধরা পড়ে যাবে কি তোর সিঁটকে কায়া
হিলের জুতোর খটাস খটাসে, ফাটাস কি তুই চিংড়িপটাশ
পেটে হাঁসির গুঁতো চেপে সব, মুখেই বলে, ‘শাবাশ,শাবাশ !’

বাঘ, সিংহের চাকরি চাইলে, সুপারিশ দিতেম চিড়িয়াখানায়
কিন্তু, কী আর বলব রে ভাই, যার ভাগ্যে যা, সে তাই পায়
বরাতের দোষে  চাকরিতে তোকে সাজতে হচ্ছে ম্যানিকিন
লেখা পড়াটা করলে রাজা, বিনে সাজেতেই লাগতিস কুইন !
     ||

-------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ০৮ জুন ২০১৫

রবিবার, ৭ জুন, ২০১৫

খোকা-ভুলানো

|| খোকা-ভুলানো ||

উত্থিত কচ্ছে হইয়া সিকিভাগ দিগম্বর
ভীমবাবু করেন মূত্রত্যাগ বিনা আড়ম্বর
রৌপ্যরেখা নিম্নমুখী সেই ধারা ক্ষুরধার
পতনে সফেন ধরা অশ্রু গদগদ অপার

সহসা পার্শ্ব হইতে এক শিশু অট্টহাসে
“দেখে ফেলেছি” কহিয়া নাচে উল্লাসে
“তবে রে !” হাঁকেন রোষকষায়িত বাবু
“আয় দেখি কাছে” শুনি শিশু হয় কাবু

বোঝেন বাবু যে শিশুটির লাগিয়াছে ডর
মোলায়েম কণ্ঠে করেন তাহাকে আদর
“আয় না বাবা কাছে, তোকে দেব কিছু”
শুনিয়া ভীত শিশু দ্বিধায় মাথা করে নিচু

শুধায়, “আগে বলো কী দেবে আমাকে ?”
বাবু হাসিয়া রৌপ্যমুদ্রা দর্শান তাহাকে
“কিন্তু, কেন দেবে ?” শিশুর পুনঃ প্রশ্ন
বাবুর হয়েন ধৈর্যচ্যুত, কণ্ঠস্বর হয় উষ্ণ

কহেন দুই হস্তে বেষ্টিয়া নিজ স্ফীতোদর
“দেখছিস না এই ভুঁড়ি, ওরে বিচ্ছু বাঁদর
পাই না দেখতে আমি আর এইটার নিচে
ঝুঁকতেও পারি না, কুপোকাত হই পাছে”

“তুই তো দেখতে পেলি, বড়ই ভাগ্যবান
বলিস না কাউকে, কিন্তু, মলে দেব কান
রাখিস যদি মুখবন্ধ তুই, না ঘটিয়ে অনর্থ
দিতে পারি সামর্থ্য অনুযায়ী সামান্য অর্থ”

দুষ্ট শিশু, ছিনিয়া মুদ্রাটি, সবেগে পালায়
“অত্তোটার এইটুকু দাম !” শুনাইয়া রায় !     ||


------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ০৭ জুন ২০১৫

শুক্রবার, ৫ জুন, ২০১৫

ভাড়া বাড়ি

|| ভাড়া বাড়ি ||

বোতাম টিপলে জল পড়ে
কল খুলে খাই বেদম শক
ফ্রিজ খুললে গরম হাওয়া
ছাতে ফ্যান করে বকরবক

দরজা খুললেই সারমেয়রা
জানলা খুললে হাজার মশা
বাথরুমেতে বিড়ালের ভিড়
শোয়ার কামরা ছুঁচোর বাসা

চুলোগুলো যে গেছে চুলোয়
হাঁড়ি কড়াই মেঝেয় গড়ায়
আর হাতা খুন্তির ঠোকাঠুকি
কুরুক্ষেত্র-রণ স্মরণ করায়

তবুও নতুন বাড়ির পড়শি
সাত সকালেই খবর নেয়
চায়ের মতন চিনিটা চেয়ে
বিটকেল নুন ফেরত দেয়

সকালে খায় ফ্যানা ভাত
দুপুরে চিবায় খবরকাগজ
সন্ধ্যাবেলা আলাপ ছলে
চেটে খায় আমার মগজ

ভাড়া বাড়ির সবই ভালো
দক্ষিণাও তেমন মন্দ না
সবার ভালো পড়শি-বালা
ভারি মিষ্টি নাম, ‘গঞ্জনা’ ||

------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ০5 জুন ২০১৫

মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০১৫

অঙ্কোপরি

|| অঙ্কোপরি ||


(কোলুপরি পরী নয়, নয় সে মোটে কোলাপুরি
উপরি যা কিছু কোলে সয়, সন্ধিতে কোলুপরি)
.
ব্র্যাঞ্চ আপিসের নটুবাবু, ঘেমে হয়রান, ক্লান্ত
বাড়ি ফিরে খাবেন বলেন, নুন, নঙ্কা, পান্তো
একটু খেলেই ওঠে তাঁর জোড়া চোঁয়া-ঢেকুর
শুনেই সাথে ককিয়ে ওঠে পোষা নেড়ি কুকুর
ক’দিন ধরেই হচ্ছে এমনই বুক-জ্বালা, অম্বল
সারা শরীর ঘামে সপসপ; হাত, পা, গা দুর্বল
গিন্নি বলেন, “জলটা খাও, নইলে খাবে বিষম !
“জোয়ান আরক খেয়ে দ্যাখ, হয় যদি উপশম”
.
(কিন্তু)
কথায় তিনি যতই পটু, হতাশ মাথা নাড়েন নটু
মাথায় ঘোরে বড়সায়েবের জবাব, “নটু ! নো টু !”
.
(শোনো)
বাংলায় এর তর্জমা বলি, ‘চলবে নাকো জোড়া’
(না, না, নয় গাধা-ঘোড়া, না গোদে বিষফোঁড়া)
আসলে, নটু চেম্বারেতে ডাকেন যেই টাইপিস্ট
সুযোগ বুঝে মিসটি বলে, “স্যার, লেট মি সিট”
এই বলে সে দোর ভেজিয়ে বসে কোলের উপর
ক্রমে, ক্রমে এই উপরির কথা চারিদিকে চাউর
নজরদাররা বলে, “স্যার, ঘটনাটা যা শুনছি, কী ?
“কোলুপরি এক সাকি আপনি পেয়েছেন নাকি !”
প্রমাদ দেখে নটু করেন টাইপিস্টকে ছুটি দান
বন্ধ সবার মুখ, বন্ধ আপিসি চিঠি আদানপ্রদান
মরিয়া নটু ভাবেন, ‘যদি পাই একটা ল্যাপটপ,
‘চিঠি মুসাবিদা করে ফেলি, টাইপ করে টপাটপ’
করেই হেন আবেদন তিনি পেলেন উত্তর কটু
বড়সায়েবের সংক্ষিপ্ত ঐ টিপ্পনী, “নটু ! নো টু !”
.
মানে, বাছা, হিসাব সাঁচা - টাইপিস্ট, কম্প্যুটার
একটার বেশি কোলুপরির কোরো না আবদার  ||


# অঙ্কোপরি [aṅkōpari]  অব্য.  কোলের উপর । [সং. অঙ্ক+উপরি] । দ্রঃ: http://www.ovidhan.org/b2b/পরি

-------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ০২ জুন ২০১৫

বুধবার, ২৭ মে, ২০১৫

কোলেস্টেরল

|| কোলেস্টেরল ||

আগে ছিলে তুমি স্বাস্থ্যবতী
আজকাল লাগছ বড্ড স্লিম
ছেড়ে দিয়েছ কি ভোগ করা
তেল, ঘি, হাঁস-মুরগীর ডিম
কোলেস্টেরলের ভয়ে-ডরে
গিয়েছ নিশ্চয় তুমি সিঁটিয়ে
জম্পেশ খাওয়া-দাওয়ার
সব আশ দিয়েছ মিটিয়ে

আশ কে দিতে পার আস্কারা
‘মা ভৈ’ বলেছ এক গবেষক
তেল, ঘি, ডিমে দোষ নেই
যদিও তাহারা স্নেহ বর্ধক
তোমার ওই স্নেহের মাধুর্যে
আমি মজেছিলাম একদিন
তাতেই ধরল মধুমেহ রোগ
এখন মাধুরী করে দশা সঙ্গিন

আমি চাই তুমি সবই খাও
বানাও লাশখানা দশাসই
শুধু লিখ স্বীকারোক্তিতে
“এর মৃত্যুর জন্য দায়ী সই”  ||


------------------------------------
২৭ মে ২০১৫ / © ইন্দ্রনীর

বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০১৫

হোলি

|| হোলি ||

পীতজ্বরে রাধা পিলা পিলা
নাই রাই বিনে কৃষ্ণ লীলা
বলো বলো রে মরদ মহিলা
তোমরা ক্যান রসে মজিলা ?

কোথা তোমাদের রাই-কানাই
যাই আমি অভিযোগ জানাই
পাড়ার যত সব শালী-জামাই
খেলে হোলি, বলি’ ‘তাই তাই’

তাই, থাই, উরু, কাঞ্চনজঙ্ঘা
লীলাখেলার নিত্য নতুন সংজ্ঞা
কে লইবে তাহাদের সঙ্গে পাঙ্গা
কাপুরুষ বাঁচায় নিজের পোঙ্গা

ছাড় ছাড় আজ কৃষ্ণ নামাবলী
ধরো ধরো ভাই রাধার চোলী
লাগাও তারে রঙ পাঁচমিশেলি
গাহিয়া -‘আই, আই রে হোলি’ ||

-------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ০৫ মার্চ ২০১৫

মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৪

শখের ছেলে

৷৷ শখের ছেলে ৷৷


শুভদিষ্টি হল মানবাজারে
মালাবদল হল বারাসতে
ঘর বাঁধলাম শখ করে
মৌলা আলীর ফুট-পথে

ঘর বলতে রেলিঙে বাঁধা
বাঁশের মাথায় সামিয়ানা
তার মধ্যেই অঢেল সুখ
ঘরকন্নার, ষোলআনা

স্বামী করে বেতের কাজ
কুড়াই আমি তারই কুটি
রাতে, দুপুরে, ছ্যাঁচা মাদুরে
ছাউনি তলায় কী খুনসুটি
...

বরটা আমার মনের ভালো
বুঝল যখন আমি বাঁজা
ধরে আনল কুকুর ছানা
বলে, “দিলেম সোনা রাজা”

রাজা আমার ভীষণ পাজি
হয়ে গেল কোলের ছেলে
মাঝখানেতে জায়গা নিয়ে
বরকে দিল ধারে ঠেলে

ওই আমাকে জড়িয়ে শুল
ভোরে উঠে চাটল গাল
শাশুড়ি-মা দেখে কাঁদল
“হায়রে, কী পোড়া কপাল !”
...

তাই তো আমি মানবাজারে
ফিরে এসেছি রাজার সাথে
না থাক বর, না থাক ঘর
শখের ছেলে হাজার পথে ৷৷


--------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪

বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৪

ছড়া ছন্দ

|| ছড়া ছন্দ ||


লিখিতে বসিয়া ক’টি পদ্য
কহি, “মেলে না যে ছদ্ম !”
গিন্নী কহে, “ওটা হবে ছন্দ ?”
বুঝিলাম সর্দিতে নাক বন্ধ

যাই হোক, নানা কসরতে
ঘুরিয়া শব্দের পথে বিপথে
লেখা হইল এক ডজন পদ্য
এক সপ্তাহ কাটাইয়া, অদ্য

কহিলে ডজনে বারো পদ্য
শুনিতে লাগে বটে অনবদ্য
কিন্তু কী পোড়া মোর কপাল
গৃহিণী দেয় বড্ড গালাগাল

কেন না রবি হইতে শনিতে
গৃহিণীর সরল পাটিগণিতে
যোগ দিয়া কিছু ছলা-কলা
কি সিঙ্গাপুরি কী কাব্য কলা

ফাউ সমেত ডজনে চৌদ্দ
না হইলেই উপবাস বরাদ্দ
অতএব ভাবি লিখিব গদ্য
নতুবা অনিবার্য অকালশ্রাদ্ধ !


-----------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ১২ নভেম্বর ২০১৪

বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৪

অন্ধকারে গন্ধ কার

|| অন্ধকারে গন্ধ কার  ||


“অন্ধকারে গন্ধ কার?” শুধাইল রাজা
মন্ত্রী কহে “উত্তর নাহি তার সোজা |”
“কত ঘন অন্ধকার তা জানা দরকার,
“গন্ধটি কি বিচ্ছিরি, নাকি কদাকার ?”
‘কদাকার’ শুনি কহে আহ্লাদী গদাধর
“কদাকার পছন্দসই, যদি হয় নধর”
‘পছন্দসই’ শুনি কহে দজ্জাল সুয়োরানী
“সত্বর ডাক মোর পছন্দের সই, মেথরানী”
মেথরানী আসিয়া কহে করিয়া কুর্নিশ
“কর্পোরেশনে ধাঙ্গড় আছে প্রায় উনিশ
“সাথে বিদ্যুৎ সরবরাহের যত কর্মচারী
“সকলে করিয়াছে ধর্মঘট রচিয়া আঁধারী
“অন্ধকারে বহে শত ভিন্ন দুর্গন্ধের হাওয়া
“কোনটি কাহার, কে কহিবে কী করিয়া ?”


----------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ৩০ অক্টোবর ২০১৪

বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৪

মনের মানুষ

|| মনের মানুষ ||


মনের মানুষ, সেরের দরে
বিক্রি হয় সব হাট বাজারে

তাও তো ফুটো বাটখারায়
বাকিটা যায় ডান্ডি মারায়

মনের মানুষ খুঁজতে হলে
না বসে, যাও দৌড়ে চলে

যাও গে বাটখারার দোকানে
দেখবে তারই একটি কোনে

ঘাপটি মেরে বসে গোপনে
লোকটা শুধু টাকাই গোনে

তার যে আছে ঢাকাই বোন
পেল্লায় শরীর, কয়েক মোন

চেহারা যদিও ফানুস, ফানুস
সত্যি সে বেশ মোনের মানুষ ||


---------------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ২৯ অক্টোবর ২০১৪

সোমবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৩

অবনী, বাড়ি আছো ?

|| অবনী, বাড়ি আছো ? রাত ক’টা ? ||


“অবনী, বাড়ি আছো ?” নেই কোনও সাড়া
সবাই মিলে বন্ধ দরজা ধরে যতই নাড়ি কড়া
আধ-খোলা জানালা দিয়ে উঁকি মেরে গুপী
কয়, “অবনী ফিতে কিছু করছে মাপা-মাপি !”

খিড়কি দিয়ে বেরিয়ে ছেলে বলে, “শুনছেন ?
এটা কিন্তু আপনাদের একটু ভুল কোশ্চেন !
যাই হোক, বাবা তৈরি করছেন উত্তরটাকে |”
শুনে আশ্বস্ত হয়ে সবাই বসলাম রোয়াকে

একটু পরে ফিতে হাতে নিয়ে বেরুলো অবনী
ঘর্মাক্ত তার কলেবর আর উত্তেজিত সব ধমনী
“প্রশ্নটা হইবে, ‘অবনী, বাড়িয়াছ ?’ ” এই বলে
ফিতে ধরল নিজের বুক ঘিরে, চেপে দুই বগলে

বলল, “ছাতির মাপ হইল বিয়াল্লিশ, এক্চ্যুয়ালি |
তাহা বাড়িয়া হয় তেতাল্লিশ, যে দিন লৌহ তুলি |
যদি না করি বগলের ক্ষৌরকর্ম সকাল সন্ধ্যায়
তবে আর এক-আধ সিকি ইঞ্চি যোগ করা যায় |”

একথা শুনে কারো মাথায় হাত, কারো কপালে
ভাবি নি অবনী করবে বাজিমাত রাত বেশি হলে |


------------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ০৭ অক্টোবর ২০১৩

শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৩

ডাবল মশারি


|| ডবোল মশারি ||

গুজব ছড়ায় পাড়ার ঝিয়ে, হাবুর নাকি মেয়ের বিয়ে
পুজোর নামে চাঁদা করে, বর পেয়েছে ওজন দরে

গায়ের রং - বেগুন ভাজার ; হাত পা যেন লোমশ রাজার
গোঁপের উপর থ্যাবড়া নাক ; নাকের ডগায় তিলের চাক
কুটিল চোখের জটিল ভুরু ; ঠোঁট গুলো বেশ লালচে, পুরু
গাল দুটোতে ব্রণের চাষ ; কানের লতি ক’ সের মাস
নিটোল পেটটা প্রকাণ্ড বেশ ; তার উপরে কাঁচাপাকা কেশ
মাঝখানে এক টোপা কুল, নাভি নাকি, পাকা জামরুল ?

পায়ের নখে কামড়ে মাটি, হাফ-ধুতি পরে যায় সে হাঁটি
দেখে জোড়া পায়ের গোছা, “নিম্নে কেন তাহার পাছা ?”
প্রশ্ন করে ছেলে ও বুড়ো | উত্তর যোগায় নকুল খুড়ো
“ও' দুই ব্যাটা, উপরে মা-বাপ, তাই গতরে তাদেরই ছাপ”

যাই হোক, তার ভালই মন, বিয়ে করবে না নিয়ে পণ
চাই না কিছুই, বাড়ি গাড়ি, চায় শুধু এক জোড়া মশারি

গায়ের চুলের ম্যালাই হ্যাপা | পাড়ার মশা বিলকুল খ্যাপা
রাতের বেলায় ঘুরে ফিরে, সকাল সকাল ফেরে নীড়ে
চুলের মধ্যে ঢুকে পড়ে, কামড়ায় না, বেড়ায় চরে
পাশ ফিরলে সুড়সুড় করে এপাশ থেকে ওপাশ সরে
বউটি নতুন, আশে পাশে, ফিকফিকয়ে যদি হাসে
যদি মশায় দ্যায় খেপিয়ে, মাথায় উঠবে নতুন বিয়ে
খাস্তা করে বরের দশা, কামড় দেবে পুষ্যি মশা
ফুলে গেলে লাশ দশাসই, পালিয়ে যাবে বিয়ে করা সই

কিন্তু ভায়া জোড়া মশারি ? মামলাটা কি জানতে পারি ?
বলছি তবে গোপন কথা – তাজ্জব এই বরের মাথা !

ধরবে মশা আজব প্ল্যানে, ঘুম পাড়িয়ে নতুন কনে
ওত পেতে সে রইবে বসে, মাতবে মশা বৌয়ের রসে
নতুন বৌয়ের গতর ঘিরি, বাঁধবে তখন এক মশারি
এই টোপে সে ধরবে মশা, বুদ্ধি তাহার এতই খাসা
(ইয়ং ব্লাডের কাজ কিবা, যদি না হয় পতির সেবা ?)

এর পরে মক্কেল ক্ষুরধার, খাটাবে আরেক মশারি তার
তার ভিতরে ফুলিয়ে ভুঁড়ি, নাক ডাকিয়ে ভুরি ভুরি
জমাবে ঘন ঘুমের পালা, চুকিয়ে যত মশার জ্বালা

তাই বলছি বন্ধু, শোনো | বউ থাকলে বিপদ কোনও
গছিয়ে দিয়ে তার ওপরে, ঘুমাও তুমি আলস ভরে

আজই গিয়ে শ্বশুর-বাড়ি, অর্ডার করো ডবোল মশারি
কদিন শুয়ে ট্রায়াল দিয়ে, না হয় কোরো ডবোল বিয়ে ||

--------------------------------------------------------------------------------------------------
© ইন্দ্রনীর / ১৭ অগাস্ট ২০১৩



বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০১৩

রিটায়ারী

।। রিটায়ারী ।।


এক কালে সবই ছিল - গাড়ি, বাড়ি, চাকরি
মাথা ভরা চুল ছিল, সিঁথি কাটা বাবরি

বন্ধুও ছিল বেশ, কলিযুগের পাণ্ডব
লেখা পড়া দূরে রেখে হত শুধু তাণ্ডব

প্রথম, যুধিষ্ঠির, নাম তার চন্দন
থেকে থেকে শোনাত গীটারের ক্রন্দন
দ্বিতীয় অরুণ, ভীম, হল-ওয়ানের পালোয়ান
রাত ভোর পাহারায়, গায়ে দিয়ে আলোয়ান
                     (পাছে কেউ বেশি পড়ে ফ্যালে)
অর্জুন, মাধ্যম জন, আমাগো বরুণ
প্রমীলা কুল প্রতি বড়ই করুণ
শেষ থাকে দুই জন, নকুল ও সহদেব
আমি ছিনু, আর ছিল শঙ্কর মহাদেব

তারপরে হল বিয়ে, হল বউ ও সন্তান
বন্ধুরা সেই ফাঁকে করলো যে প্রস্থান

একে একে সব গেল, শেষে গেল চাকরি
এখন বেকার আমি, হয়ে গেছি রিটায়ারী
বউ মোর কথা গেল? নট মাচ্ এ মিস্ট্রি
টাকার অভাবে সে করে ইস্কুলে মাস্টারি

অতএব ফিরে এস সব, ছেড়ে বউ বাড়িতে
অবশ্য অবশ্য হবে আড্ডা যে মারিতে |
--------------------------
 ইন্দ্রনীর / ২৫শে জুলাই ২০১৩